• Android

    Get all android stuffs here.You will find latest android news,tips,developers tools and resources here..

    Read More
  • Be an Expert in Programming

    Here you will find lot of programming books,tutorials,resources.Different tips and trick in programming.Common programming problems and their solve etc...

    Read More
  • Movies

    Get somethig eztra from this blog. Get all kinds of movie review,download link and much more

    Read More
Showing posts with label Others. Show all posts
Showing posts with label Others. Show all posts

Monday, 29 June 2015

কিছু আশ্বর্যজন ঘটনা যা বিজ্ঞানিরা এখনো সমাধান করতে পারেননি (Part-1)

২৫) Sun´s corona
আমরা জানি সুর্য হচ্ছে অত্যান্ত উচ্চ তাপমাত্রার একটা গ্যাসের বল। করনা হচ্ছে এই গ্যাসের বলের চারপাশে থাকা এক ধরনের রিংএর মতন ছিটকে যাওয়া পদার্থ। বিজ্ঞানিরা এর নাম দিয়েছেন করনা। এটি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা গেছে কিন্তু যেই জিনিষটা এখনো তারা জানতে পারছেন না যে কেন এটা তাপমাত্রা সুর্য পৃষ্ঠ থেকে অনেক অনেক বেশি। মুলত সুর্যের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা হচ্ছে ৫৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিন্তু সেই পৃষ্ঠতল থেকে অনেক অনেক দুরে অবস্থিত ছিটকে পরা কিছু গ্যাসের তাপমাত্রা কিভাবে ত্রিশ লক্ষ থেকে কোটি লক্ষ ডিগ্রিসেলসিয়াস তাপমাত্রা হয়ে যায়। আমরা সাধারনত যা বুঝি সেই সিস্টেমে তো তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কথা কারন বস্তু তার হোস্ট থেকে দুরে সরে গেলে তাপমাত্র করে যাবে। কিন্তু এখানে কেন পুরোপুরি উল্টোটা হচ্ছে সেটাই এখনো খুজে পাচ্ছেন বিজ্ঞানিরা। অনেকেই অনেক ধরনের থিউরি দিয়েছেন কিন্তু কেউই এখন পর্যন্ত শিউর করে প্রমান করতে পারেননি এই ঘটনাটা কেন ঘটে।
২৪) Animal migration
প্রানি জগতের একটা অসাধারন আর আশ্বর্যজনক জিনিষ হচ্ছে এই মাইগ্রেশন। দেখা যায় আমাদের দেশে শীতকালে রাশিয়ার সাইবেরিয়া থেকে কিছু পাখি আসে। আমরা তাদেরকে অতিথি পাখি বলি কিন্তু কোনদিনকি একবারও জানতে চেয়েছি কেন তারা এরকম মাইগ্রেশন করে থাকে। আসলে বিজ্ঞানিরা এখনও খুজছেন কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটে। সাধারনত পানিতে থাকা তিমি থেকে শুরু করে আফ্রিকার যেব্রা হয়ে, হাতি , পাখি পর্যন্ত বছরের একটা নির্দিস্ট সময়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে একটা নির্দিস্ট স্থানের মধ্যে যাতায়াত করে। মজার বিষয় হচ্ছে এটা তারা দল বেধে করে থাকে এবং তাদের সময়ের কোন হেরফের হয় না এতে। অথচ এর জন্য তাদের কোন লিডার থাকে না কোন পথপ্রদর্শক বা গাইডও থাকেন না এমনকি কেউ জানেও না কোথায় যাচ্ছে। আশ্বর্যজনক এই ঘটনাটার রহস্য মুলৎপাটনের জন্য এখন বিজ্ঞানিরা প্রচুর গবেষনা করছেন। বিজ্ঞানিরা প্রানিদের মস্তিস্কে একধরনের ডিভাইস বসাচ্ছেন যাতে তারা বুঝতে পারেন কিভাবে এই অবুঝ প্রানিগুলো পথ না হারিয়েই সঠিক দিকে দিনে পর দিন চলতে পারে এবং নির্দিস্ট এলাকায় গিয়ে পৌছে যায়।
২৩) Taos hum
এটি একটি রহস্য জনক ঘটনা যা ঘটে থাকে পৃথিবীর অনেক স্থানেই। সাধারনত কোন একটা এলাকাতে এমন অদ্ভুৎ শব্দ হয় যে রাতে বা অন্ধকারে ভয় পাইয়ে দেয়। মানে হয় কেউ কাদছে বা একই সুরে বাশি বাজাচ্ছে। এটাকেই hum বলা হয় সাধারনত। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে রহস্যজনক হচ্ছে মেক্সিকোর Taos নামক এলাকার বাসিন্দাদের কানে শোনা অদ্ভুৎ এই শব্দটি। অনেক বিজ্ঞানি যারা ওখানে গবেষনার জন্য গিয়েছেন তারাও এই শব্দটি শুনেছেন। তারা শব্দের উৎস বের করার জন্য বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা, সাউন্ডরেকর্ডার সহ অনেক ধরনের গবেষনা চালিয়েছেন। কিন্তু কিছুতেই খুজেই পাননি কোথা থেকে এই শব্দ উৎপন্ন হয়। অদ্ভুৎ এই শব্দটি রাতের বেলা যে কারো মনের মধ্যে ভায়ের চাদর বিছিয়ে দেয়ার জন্য যথেস্ট। তবে মজার বিষয় হচ্ছে সবাই এই শব্দটি শুনতে পান না।
২২) Jellyfish disappearance from the Jellyfish Lake
এটি একটি লেক যেখানে জেলিফিস বাস করে। অস্ট্রেলিয়ার পাশেই দ্বিপ রাস্ট্র পালাও এর দ্বিপ Eil Malk এর মধ্যে এই লেকটি অবস্থিত। মজার বিষয় হচ্ছে এই লেকের পানিতে শুধু জেলিফিসই পাওয়া যায়। তাও স্বর্নালি রংয়ের জেলিফিস। সরাবছর এখানে গেলেই দেখা যাবে জেলিফিসরা দল বেধে ঘুরে বেরাচ্ছে স্বচ্ছ পানির ভিতরে। মুলত এই লেকটির সাথে সমুদ্রের কানেকশন আছে পানির নিচদিয়ে কিছু সরু টানেল এবং গুহার দ্বারা। এগুলো মুলত হাজার বছর ধরে সৃস্টি হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে জেলিফিসগুলো মুলত প্রায় প্রতিদিন সমুদ্র থেকে এই টানেল এবং গুহা হয়ে এই লেকে চলে আসে আবার চলেও যায়। কিন্তু হঠাৎ করে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এই দুবছরে কোনদিনও একটা বারের জন্য একটা সিঙ্গেল জেলিফিস এই লেকে আসেনি। বিষয়টা সবার নজরে আসার কারন হচ্ছে প্রচুর পর্যটক এই দ্বিপে নিয়মিত যেতেন জেলিফিস দেখার জন্য। কিন্তু এই সময়টাতে কোন জেলিফিস আর আসেনি। কর্তৃপক্ষ এবং সরকার যখন এদের আশা একেবারে ছেরেই দিয়েছেন তখন হঠাৎ করে এরা আবার আসতে শুরু করে লেকটিতে। কিন্তু এই ঘটনাটা কেন ঘটেছে এবং এর কোন ব্যাক্ষা কোন জীববিজ্ঞানি আজ পর্যন্ত দিতে পারেন নি। তারাতো এমনকি কেন জেলিফিসগুলো প্রতিদিন এই লেকে আসে সেটারই কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
২১) Ice circles
এগুলো একই সাথে আইস ডিস্ক বা আইস প্যান নামেও পরিচিত। সাধারন খুব স্লো বা মন্থর গতির পানিতে এই ধরনের গোলাকার বরফের চাকতি দেখা যায়। এগুলা এতটাই গোল হয় যে অবাক হয়ে যেতে হয়। অনেকেই এগুলো নিয়ে বিভিন্নধরনের মতামত দিয়ে থাকেন। যেমন কেউ কেউ বলেন এগুলো সৃস্টি হয়েছে মন্থরগতির পানি ঘুর্ননের ফলে। কিন্তু বিজ্ঞানিরা বিষয়টা মানতে নারাজ কারন পানি ঘুর্ননের ফেলে এটা তৈরি হবার সময়ই এগুলো ফেটে চৌচির হয়ে যাবার কথা। কিন্তু এখনে এগুলো একোবরে চমৎকার এক শেইপে গোলাকার ডিস্ক আকারে পানিতে ভাসছে।













মূল লিখা ঃপ্রকৌশলী বশর সিদ্দিকী





Sunday, 28 June 2015

ফলিং ওয়াটার" স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম সৃষ্টি। "

বিয়ার রান উপত্যাকার ছোট ছিমছাম এক পাহাড়ী ঝর্ণা কলকল শব্দে আপনমনে বয়ে চলছে। চারপাশে ঘন সবুজ বনের আধিক্য। নিশ্চিন্তে বন্য প্রানীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। গাছপালা চারদিক ঘিরে রেখেছে। পাতা আর ডালের আড়াল কেটে চোখে পড়ে বিশাল এক খোলা বারান্দা।
খোলা বারান্দায় দাড়ালেই চোখে পড়বে পানির ধারা আর কানে আসবে পড়ন্ত পানির সুরেলা ধ্বনি। ঝর্নার উৎস খুজতে গেল চমকে উঠবে যে কেউই কারন এ যে একদম বারান্দার নিচ দিয়েই বয়ে চলছে। পায়ের কাছে জমা হয়ে আছে বিভিন্ন বর্নের নুড়ি পাথর। সবমিলিয়ে পাহাড় কেটে তৈরী করা একটি বাড়ি বলেই ধরে নেবেন যে কেউ। প্রকৃতিকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে স্থপতি যেন একদম প্রকৃতির মাঝেই বিলীন হয়ে গিয়েছেন। চোখের দেখায় যা মনে আসবে বাড়িটির নাম আসলে তাইই ‘ফলিং ওয়াটার’।
এটি স্থপতি ফ্রাঙ্ক লয়েড রাইটের একটি অমর সৃস্টি যা তাকে বিশ্বব্যাপী মাস্টার আর্কিটেক্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। দক্ষিন পশ্চিম পেনিসেলভেনিয়ার একটি গ্রামীন এলাকায় ১৯৩৫ সালে স্থপতি ফ্রাঙ্ক লয়েড রাইটের ডিজাইন এবং তত্বাবধানে নির্মিত হয় এই ছোট্ট পাহাড়ী কুটির। বাড়িটি স্থপতির দেয়া নাম “ফলিং ওয়াটার” হিসেবে পরিচিত হলেও বাড়ির সৌখীন মালিক ব্যবসায়ী কফম্যানের নামে এর নামে এটি “কফম্যান হাউজ” হিসেবেও পরিচিত।
স্থপতি রাইট বিশ্বাস করতেন, মানুষ প্রকৃতির স্রস্টা না হলেও প্রকৃতিকে পূনর্জন্ম দেয়ার ক্ষমতা তার আছে। এজন্য তার প্রাথমিক আইডিয়া ছিলে, “তিনি প্রকৃতিকে কোন বিরক্ত করবেন না বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরো কাছে নিয়ে আসবেন। প্রকৃতি চিরন্তন কিন্তু মানুষ স্বল্পস্থায়ী, একসময় হারিয়ে যাবে। সুতরাং মানুষের জন্য তৈরী স্থাপনাও হবে তেমনই।“
যদিও বাড়িটি চতুর্দিকে খোলা তবে উচ্চতা কম হবার কারনে বাড়িটিতে ঢুকলে এটিকে এক ধরনের গুহার মত মনে হয়। বাড়ির মুল অংশটি মি কফম্যানের ব্যক্তিগত বাসভবন হিসেবে।এছাড়া নিজেদের প্রয়োজনীয় বেডরুম, ফ্যামিলি লিভিং, ডাইনিং স্টাডি রুম ইত্যাদির পাশাপাশি অতিথিদের জন্য একটি গেস্ট জোন তৈরী করা হয়। যার অবস্থান বাড়িতে প্রবেশের সামনের দিকে। বিশাল ড্রয়িং রুমের পুরোটাই ঝুলন্ত।
মুলত ভ্যাকেশন হাউজ হিসেবে বাড়িটির জন্ম।মিঃ কফম্যান চাইতেন তার বন্ধু বান্ধব আত্নীয় স্বজন নিয়ে প্রান্বন্ত অবসর কাটাতে। সুতরাং তার বড়সড় লিভিংরুম দরকার ছিলো। তাই লিভিংরুম থেকে একটি ঝুলন্ত সিরি নিচের ঝর্ণার দিকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে(৬ নং ছবি)। শীতের সময় যেখানে পানি জমে বরফের লেয়ার তৈরী হয়ে একটি ভিন্ন অনুভুতির তৈরী হয়(৪নং ছবি)।
শীত শেষে বসন্ত আসা মাত্রই উল্টো চিত্র(২নং ছবি)। ঝুলন্ত বারান্দা, নিচে নেমে আসা সিড়ি, ঝির ঝির পানি আর চারপাশে হাসতে থাকা রং বেরংয়ের ফুলের মিতালী দশর্নার্থীদের জন্য প্রাকৃতিক অভ্যর্থনা দিয়ে স্বাগত জানাতে থাকে। মুল বাড়ির উল্টোদিকে পাহাড়ের ঢালে কারপার্কিং এবং সারভেন্ট কোয়ার্টার। কফম্যান হাউজের অন্তর্গত বিন্যাস মোটামোটি এমনই।
১৯৩৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনে ফলিং ওয়াটার এবং ফ্রান্ক লয়েড রাইটকে নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর দর্শনার্থীর ঢল নামে এখানে। টাইম ম্যাগাজিন এটিকে অভিহিত করে স্থপতি রাইটের শ্রেস্ট সৃস্টি হিসেবে।
১৯৩৭ সালে কাজ সম্পন্ন হবার পর থেকে ১৯৬৩ সাল পযর্ন্ত কফম্যান পরিবারের নিজস্ব আবাস হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।
১৯৬৩ সালে কফম্যান জুনিয়র এটিকে দিয়ে দেন ওয়েস্টার্ন পেনসিলভানিয়া কনজারভেন্সী নামক রাস্ট্রীয় সংস্থার হাতে। ততদিনে এটি খ্যাতি অজর্ন করেছে।
১৯৬৬ সালে এটি জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেব গৃহিত হয়।
১৯৯১ সালে আমেরিকান স্থপতি ইন্সটিটিউট এটিকে সবর্কালের সবর্শ্রেস্ট আমেরিকান স্থাপত্য হিসেবে ঘোষনা করে।
প্রয়োজনীয় পরিবধর্ন এবং সংস্কার শেষে পরের বছরই এটিকে উম্মুক্ত করে দেয়া হয় মিউজিয়াম হিসেবে।


















Saturday, 27 June 2015

পৃথিবীর সবচেয়ে এক্সট্রিম স্থানগুলো-- (পর্ব-২)

 ৬) সবচেয়ে শুকনো স্থান -- Atacama Desert


এটি একটি মালভুমি টাইপের স্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচু এবং পুরোটাই মরুভুমি। শুস্ক মরুভুমি। এতটাই শুস্ক যে পৃথিবীতে এতটা শুস্ক আর কোন অঞ্চল নেই। Atacama মরুভুমির অবস্থান মোটামুটি চারটা দেশের মাঝখানে। চিলি. পেরু, বলিভিয়া এবং আর্জেন্টিনা। মজার বিষয় হচ্ছে এই চারটা দেশের কেউই এই অঞ্চলটা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায় না কারন এর শুস্কতা।



একদিকে আন্দিজ পর্বতমালা এবং এবং একদিকে প্রশান্ত মহাসাগর এবং এই দুয়ের মাঝখানে রয়েছে এই মরুভুমিটি। এটি এতটাই শুস্ক যে বিজ্ঞানিরা চাদের পরিবেশের সাথে এর তুলনা করেছেন। সাধারনত আমাদের সাধারন মাটির বৈশিষ্ট হচ্ছে মাটির উপরে বর্ষন হলে সেই পানি চুইয়ে মাটির নিচে গিয়ে একটা নির্দিস্ট লেয়ারে  জমা হয়। কিন্তু এই মরুভুমিতে সেটা হয় না। কারন হচ্ছে এখানে কোন বর্ষনই হয় না। বিজ্ঞানিদের হিসাবে মতে এখানে একবার বৃস্টি হয়েছিল 1570 সাথে আর পরের বার হয়েছিল 1971 সালে প্রায় ৪০০ বছর পরে। এর পরে আর কোন খবর নেই। আর সেই বৃস্টির পরিমানও খুবই অল্প ছিল।

আর সমুদ্র থেকে যে মাটির নিচের লেয়ারে পানিটুকুন আসার কথা তা উবে যায় প্রচন্ড তাপমাত্রারন কারনে। এখন সবার প্রশ্ন হচ্ছে এমন কেন হয়। বিজ্ঞানিরা গবেষনা করে যা পেয়েছেন তা হচ্ছে খুবই মারাত্মক ঘটনা। দুইটা কারনে এটা হচ্ছে
১) আন্দিজ পর্বতমালা। এই পর্বতগুলো মুলত গলিত লাভা ভুপৃষ্ঠের অনেক নিচ থেকে উদগিরনের মাধ্যমে সৃস্টি হয়েছে। সে লাভা উদগিরনের পরে তার স্তর মাটির অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে মাটির যেই স্তরে পানি থাকার কথা সেই স্তরে লাভার প্রচন্ড তাপমাত্রার ফলে পানি জমতে পারে না। জমার আগেই বাস্প হয়ে যায়।
২) আন্দিজ পর্বতমালা অত্যান্ত উচু। এতটাই উচু আর পর্বতগুলো এতটাই ঘন যে উত্তর-পৃর্ব থেকে আসা মেঘমালা কিছুতেই এই ঘন এবং উচু পর্বত পার হয়ে আসতে পারে না। ফলে বৃস্টিও হতে পারে না। আবার সমুদ্র পৃষ্ঠথেকেও যে মেঘমালা জমে তাও এই অঞ্চলে এসে অতিরিক্ত শুস্কতার কারনে উবে যায়।


এই একই কারনে এমাজন জঙ্গলে এত বেশি বৃস্টি পাত হয়। এবং এমাজনে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং বেশি পানি ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন নদী। কারন এই বিশাল অঞ্চলে যেই পরিমান বৃস্টিপাত হওয়ার কথা ছিল তার পুরোটাই আন্দিজের পর্বতমালার পাদেদেশে হয়। আর সেই পানি গরিয়ে তৈরি কেরেছে আমাজন নদী আর বিস্তৃর্ন আমাজন জঙ্গল।



এই মরুভুমির কারনে এর আশে পাশের বেশ কিছু সুউচ্চ পর্বতের চুরাতেও কোন বরফ নেই। অথচ এর চেয়ে অনেক কম উচ্চতার পর্বতেও অনেক অনেক বরফ জমে যায়। এর কারনে এই অঞ্চলে কোন মানুষের বসবাস নেই। কাউকে যদি শাস্তি দিতে চান এখানে এনে ছেরে দিলেই হবে। উপরের ছবিটাতে একটা মেয়ের মমি দেখা যাচ্ছে। মেয়েটা প্রায় ৮০০ আগে এই মরুভুমিতে মৃত্যুবরন করে। অতিরিক্ত শুস্কতর কারনে শরিটা পচেও যায়নি। এই মরুভুমিতে আরো অদ্ভুৎ সব মমি পাওয়া গেছে যেগুলো মোটেই মানুষের নয়। এখনও গবেষনা হচ্ছে সেই মমিগুলো নিয়ে।


আপনি এখন পর্যন্ত যতগুলো সাইন্সফিকশন মুভিদেখেছেন যেখানে চাদ বা অন্যান্য ভিনগ্রহের বাস্তব চিত্র দেখনো হয়েছে সবগুলোই এখানে চিত্রায়িত করা হয়েছে। কম্পিউটারে মুভি নির্মানের আগে সেই সত্তর-আশির দশকে সাইন্সফিকশন মুভি চিত্রায়িত করার জন্য এই স্থানটিই ছিল সবচেয়ে সুইটেবল স্থান। অস্বাভাকি বিষয় হচ্ছে কিছুদিন আগে মানে প্রায় মাস দুয়েক আগে এখানে প্রচুর বৃস্টির ফলে ভয়ানক এক বন্য হয়েগেছে্। মরুভুমি তে একেবারে হারিয়ে যাওয়া একটা নাদি হঠাৎ করে প্রচন্ড বৃস্টিতে মাটি ধুয়ে প্রচন্ড কাদার স্রোতের সৃ্স্টি করেছিল। সেই কাদার স্রোতের আঘাতে প্রচুর মানুষ ক্ষাতিগ্রস্থ হয়েছে। নিহত, আহত এবং অনেকেরই স্রেফ কাদার নিচে সলিল সমাধি হয়ে গিয়েছে। অস্বাভাবিক এই ঘটনাই প্রমান করে দিচ্ছে পৃথিবীর ক্লাইমেটের বর্তমান অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে। মুলত এখানে সাধারনত একটা উচ্চচাপ থাকে। হঠাৎ করে দক্ষিন প্রশান্ত মহাসাগর একটা নিম্ন চাপো সৃস্টি হলে সেটা আস্তে আস্তে এই অঞ্চরে দিকে আসতে থাকে। এক সময় সেটা এই উচ্চচাপের সাথে বাধাপেয়ে মেঘে পরিনত হয়। এই মেঘই আন্দিজ পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রচন্ড বৃস্টি পাত ঘটায়। অথচ এই বৃস্টিটা হওয়ার কথা ছিল আমাজনে। বন্য হওয়ার কারন হচ্ছে আমাজনে যেভাবে পানিনিস্কাসনের জন্য প্রাকৃতিক বেসিন আছে এখানে সেটা নেই। ফলে পুরো পানিটাই লোকালয়ে ঢুকে পরে।

৭) সর্বোচ্চ মানুষ্য বসতি -- La Rinconada


বিষয়টা হচ্ছে মানুষ সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ঠিক কতটা উপরে বাস করতে পারে। ১০০ ফুট, ৫০০ ফুট, ১০০০ মিটার, তিন কিলোমিটার?? নাহ এর চেয়েও ঢের বেশি উপরে মানুষ বাস করে। রিতিমত একটা আস্ত শহরই আছে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০০০ মিটার বা ৫ কিলোমিটার উপরে। শহরটার অবস্থান বর্তমান পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার একটা পর্বতের চুরার ঢালের উপরে।


 মুলত এই শহরটি স্থাপনের কারন হচ্ছে পাশেই থাকা বিশাল গোল্ড মাইন বা স্বর্ন খনি। বিপুল পরিমান স্বর্ন মজুদ আছে এই খনিটিতে। প্রচুর লোক কাজ করে এখানে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত উচ্চতার কারনে সাধারন মানুষেরা এখানে কাজ করতে পারে না। এর প্রধান কারন হচ্ছে অতিরিক্ত উচ্চতায় অক্সিজেন স্বল্পতা। পুরো শহরটিতে সর্বমোট বাস করে প্রায় ৩০ হাজার এর মতন মানুষ।



এত উচ্চতায় রাস্তার সুবিধা না থাকায় শহরটিতে বসবাসের জন্য প্রয়োজনিয় দ্রব্যসামগ্রি পৌছানো মারাত্মক একটা সমস্যা। এছারা এই শহরটিতে পরিপুর্ন ভাবে নাগারিক সুযোগ সুবিধা থাকে না। কারন বেশির ভাগ খনিশ্রমিকরা আরো অনেক নিচে অন্যএকটা শহরে বাস করে। যার কারনে সরকারও তেমন একটা আগ্রহ দেখায় না শহরটির প্রতি। ফলে এখানে ভয়াবহ অমানবিক অবস্থা বিরাজ করে। বিশেষ করে স্যানিট্যাশন অস্থা খুবই মারাত্মক। খাবারেরও অভাব থাকে পুরো শহরজুরে।

৮) সর্বোচ্চতম তাপমাত্রা -- Death Valley


অল্প একটু গরম লাগলেই হাপিয়ে উঠেন। এসি আর ফ্যান ছারতে ছারতে বেদিশা হয়ে যান। কখনো জানতে চেয়েছেন পৃথিবীতে কোন স্থান সবচেয়ে গরম হয় এবং সেটা কত? আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়া অঙ্গরার্জের পুর্বঞ্চলে ড্যাথ ভ্যালি নামক একটি স্থান রয়েছে। এটি রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার অঞ্চল। এখানকার তাপমাত্র প্রায় ৫৭ থোক ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়ার পর্যন্ত উঠে যায় গ্রিস্ম কালে। খালি গায়ে তখন ওই স্থানে এক ঘন্টা ঘুরে আসলে আপনাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে নিশ্চিত ভাবে। কিন্তু এমনটা কেন হয়??


গ্রিষ্ম কালে এই এলাকাটি এত গরম হওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে এর অবস্থান। এটি একটি গিরিখাত এর মতন। পুরো এলাকাটি অনে অনেক উচু পর্বতশ্রেনি ঘিরে রেখেছে। পর্বতগুলো ঠিক পাদদেশে অবস্থিত এই এলাকা সম্পুর্ন সমতল আবার এই সমতল ভুমিটুকুন সমুদ্র পৃষ্ঠথেকে ২৮২ ফিট নিচে। এর কারনে সুর্যের তাপমাত্রার বেশির ভাগই সরাসরি মাটি পর্যন্ত পৌছে যায়। এতে মাটির কাছাকছি থাকা বাতাস আস্তে আস্তে গরম হয়ে উপরের দেকে চলে আছে আর উপরের বাতাস নিচে চলে যায়।



আবার সেটি গরম হয়ে উপরে চলে আসলে উপরে থাকা গরম বাতাসটা পর্বতরে গায়ে থাকা বরফের সান্নিধ্যে এসে হঠাৎ করে ঠান্ডা হয়ে গিয়ে নিচে চলে যায়। কিন্তু নিচের বাতাস এবং মাটি এতটাই গরম থাকে যে সেটি নিচে যেতে যেতে তেতে উঠে। এভাবে সার্বক্ষনিক একটা গরম বাতাসের লূ হাওয়া বইতে থাকে পুরো অঞ্চলটিতে। বাতাসটা এতটাই তেতে থাকে যে চামরা পুরিয়ে দেওয়ার অবস্থা হয়ে যায়। মনে হয় একটা আস্ত অগ্নিকুন্ডে মধ্যে এসে পরেছেন। বাতাস চলাচল করে ঠিকই কিন্তু সেই বাতাস আপনার শরির পুরিয়ে দেয়ার জন্য যথেস্ট।

৯) সবচেয়ে নির্জনতম স্থান -- Tristan de Cunha


এটি দক্ষিন আটলান্টিক মহাসাগরে আগ্নেয়গিরি সম্বলিত একটি দ্বিপ রাস্ট্র। বেশ কয়েকটি দ্বিপ নিয়ে রাস্ট্রটি গঠিত। এটি একই সাথে ইংল্যান্ডে এর রানির আন্ডারে একটি রাজ্য। এখানে রিতিমত আস্ত একটি সরকারও আছে। সরকার প্রধান অবশ্য রানির নিযুক্ত এজন গভর্নর। এবং সকল বৈদেশিক এবং রাস্ট্রিয় কার্যক্রম চলে ইংল্যান্ডের একক সিদ্ধান্তে । তবে এটি পুরোপুরি কিন্তু একটি স্বাধিন দেশ।


২০১৫ সালে এখানে সর্বোমোট বসবাসকারির সংখ্যা পাওয়া গেছে ৩০২ জন। সর্বমোট জমির পরিমান হচ্ছে ২০৭ বর্গ কিলোমিটার। মানে প্রতি ১.৪ বর্গকিলোমিটারে একজন করে মানুষ বাস করে। তবে এটি নির্জনতম স্থান হওয়ার আর একটা কারন আছে। এই দ্বিপ রাস্ট্রটি থেকে কাছাকাছি কোন দেশ বা সমুদ্র উপকুল এর দুরত্ব হচ্ছে প্রায় ২০০০ কিলোমিটার। তাও সেটাও আর একটা দ্বিপ। আর মোটামুটি সবচেয়ে কাছের পরিপুর্ন দেশ হচ্ছে সাউথআফ্রিকা যার দুরত্ব ২৪০০ কিলোমিটার।



তার মানে হচ্ছে এখানে যারা থাকেন তারা পুরোপুরি পৃথিবীর সকল অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন। কারন এখানে কোন বিমান বন্দর নেই। একটা ছোট সমুদ্রবন্দর আছে। যেখানে বাহিরের কোন জাহাজ মাঝে মধ্যে বিপদে পরলে এসে আশ্রয় গ্রহন করেন। পুরো দেশটির অর্থনিতি প্রধানত মাছ এবং কৃষির উপর নির্ভশিল। তবে এখানে বৈদেশিক বানিজ্য একেবারেই হয় না। কারন যোগাযোগের সমস্যা। মুলত কোন পন্য আনতে হলে নিকটস্থ দেশ সাউথআফ্রিকা থেকে জাহাজে করে প্রায় ২৪০০ কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে আনতে হয়। সরকারি মালিকানায় দুইটা জাহাজ আছে যা নিয়মিত সাউথআফ্রিকার উপকুলিয় শহর কেপটাউন পর্যন্ত আসা যাওয়া করে । তবে সেটা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এই যোগাযোগের কারনে এখানে টুরিস্টরাও যেতে চান না। যারা যান তাদের হাতে প্রচুর সময় থাকতে হবে। আর এত সময় কার হাতে থাকেন বলুন। তবে আপনি যদি পুরো পৃথিবী থেকে একেবারে হারিয়ে যেতে চান তবে এখানে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই।

মারাত্মক বিষয় হচ্ছে কিছুদিন আগে এখানকার সমুদ্র উপকুল থেকে বিশাল একটি তেল ক্ষেত্র আবিস্কার করেছে ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ যেটা থেকে প্রচুর পরিমান তেল উৎপাদন এর আশা করছে তারা। তবে তার পরও এখানে বসবাস কারির সংখ্যা কিছুতেই বারাতে পারেনি । প্রধান কারন হচ্ছে যোগাযোগ। যারা বসবাস করছে তারা অধিকাংশই বংশ পরম্পরায় থাকছেন। আমার কাছে একটা বিষয় ভালো লেগেছে এদের বাড়িগুলো এবং সাজানো গোছানো প্রকৃতি। আমার ইচ্ছে আছে কোন এক সময় এই স্থানটাতে ঘুরে আসার।

১০) গভিরতম গুহা -- Krubera Cave



একটা গুহা বা গর্ত কতটুকুন পর্যন্ত হতে পারে। না মানুষ্য নির্মিত গর্ত নয়। একেবারে প্রাকৃতিক গুহা। জর্জিয়ার পাহারি অঞ্চল আবখাজিয়াতে  Krubera নামক গুহাটির গাভিরতা ভুপৃষ্ঠ থেকে দুই কিলোমিটারেরও বেশি নিচে। অস্বাভাবিক এই গুহাটি একেবেকে মাটির নিচে অত্যান্ত বিশ্বয়কর অবস্থার মধ্য দিয়ে মাটির অনেক গভির পর্যন্ত চলে গিয়েছে। বিশাল সব পুকুর, স্বচ্ছ পানির ধারক, গরম আবহাওয়া, মারাত্মক গ্যাস সহ কি নেই এই গর্তের মধ্যে।





প্রথম এই গুহাটা ২০০১ সালে পৃথিবীর নজরে আসে যখন ইউক্রেনের একদল ডুবুরি এবং অত্যান্ত দুঃসাহসি কিছু মানুষ এই গর্তের ভিতরে প্রায় ১৭০০ মিটার বা দের কোলেমিটার এর নিচে চলে যান। কিন্তু তাদের কাছে যথেস্ট খাবার এবং অক্সিজেন এবং প্রস্তুতি না তাকায় আবার ফেরত যেতে হয়। কারন তাদের ধারনার বাইরে গভির ছিল গর্তটি। আবার একটা খুবই মারাত্মক গ্যসিয় চেম্বারের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করার মত যথেস্ট জিনিষপত্র তাদের সাথে ছিল না সে সময়।



এর পরের বার প্রস্তুতি নিয়ে তারা আবার সেখানে গিয়ে প্রায় ২০৮০ মিটার নিচে চলে যান। কিন্তু এবার একটা অত্যন্ত গভির পানির পুকুরের সম্মুখিন হন। এই পুকুরটির গভিরতা যে কোথায় গিয়ে শেষ হয়েছে তার কোন ধারনাই নেই এই দলের। তারা ২০০৭ সালে সর্বনিম্ন প্রায় ২১৯১ মিটার পর্যন্ যেতে পেরেছিলেন। এর নিচে যাওয়ার মতন যথেস্ট জিনিষপত্র আর অক্সিজেন তাদের সাথে ছিল না। ধারনা করা হয় ওই পুকুরটির তলাতে মানুষের জন্য কোন এক বিষ্ময় অপেক্ষা করছে। কিভাবে এত গভিরে বিশাল এই পুকুরটার সৃস্টি হল সেটাও আর একটা বিষ্ময়। যেখানে ভালো করে অক্সিজেনই প্রবেশ করতে পারে না।



অভিযাত্রি দলের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা ছিল অসহ্য অন্ধকার। অন্ধকার সম্পর্কে আমার একটা পোস্ট আছে পরে আসতে পারেন। এই গুহার ভিতরের অন্ধকার আর নির্জনতা এতটাই বেশি যে আপনাকে দুই দিনের মধ্যে পাগল করে দিতে পারবে। আর এটাই অভিযাত্রিদলের জন্য সবচেয়ে সমস্যার বিষয় ছিল। তার পরে ওই পুকুরটা তাদেরকে আরো বেশি হতাশ করে ফেলেছিল। তবে ধারনা করা হচ্ছে এইবার অভিযাত্রি দল নিজেদের সাতে অত্যান্ত শক্তিশালি একটা রোবট রাখবেন যেটা তাদের অনেক কাজ সহজ করে দেবে। আশা করা যায় এই রহস্যের সমাধান করেই ছারবেন।


মূল লিখা ঃপ্রকৌশলী বশর সিদ্দিকী

















পৃথিবীর সবচেয়ে এক্সট্রিম স্থানগুলো-- (পর্ব-১)


১) গভিরতম হ্রদ -Lake Baikal




বৈকাল হ্রদ রাশিয়ার দক্ষিনাঞ্চলের সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। এই হ্রদটি হচ্ছে এই মুহুর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ মিস্টি পানির হ্রদ। এটি একটি  Continental rift lake টাইপ লেক বা খাদ টাইপের হ্রদ। দুটি কন্টিেন্টেন্ট এর প্লেটের মধ্যে যে খাদ সৃস্টি হয়েছিল সেই খাদটিই পানি পুর্ন হয়ে লেকটি সৃস্টি হয়েছে। এটি বর্তমানে পৃথিবীর ২০ ভাগ মিস্টি পানির ধারক। এর এত পানি ধারন করার কারন হচ্ছে এর গভিরতা।




গরে প্রায় ৭৪৪ মিটার বা ২৪৪০ ফিট গভির এই লেকটি। সর্বোচ্চ ১৬৪২ মিটার বা প্রায় দের কিলোমিটার গভির। জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে এই বিশাল লেখটি সম্পুর্ন বরফাচ্ছাদিত অবস্থা থাকে। তখন যে কেউ পুরো লেকটির উপরে ঘুরে বেরাতে পরবে বরফ গারি দিয়ে। এই লেকটি সরাসরি মহাকাশ থেকে দেখাযায়। এটি একই সাথে পৃথিবীর সবচেয়ে স্বচ্ছ পানির লেক। এর পানি এতটাই স্বচ্ছ যে বরজমে গেলে সেই বরফের মধ্যে দিয়ে একেবারে নিচ পর্যন্ত দেখা যায়।


এত গভির হওয়ার কারন হচ্ছে  Continental rift এর কারনে। আমরা জানি পৃথিবী অনেকগুলো ছোট বড় টেকটনিক প্লেট এর টুকরো দিয়ে গঠিত। এই প্লেটগুলো যখন একটা থেকে আর একটা সরে যায় বার ঘর্ষন হয় তখনই তাদের মধ্যে একটা গর্তের মতন সৃস্টি হয়। এই গর্তগুলোই পরবর্তিতে বিভিন্ন অদ্ভুৎ সব স্থানের সৃস্টি করে। বৈকাল এই ধরনের একটা ঘটনার ফলে বিশাল খাদের মতন সৃস্টি হয় আর সেখানে হাজার বছর ধরে পানি জমতে জমতে হ্রদের সৃস্টি হয়েছে।

প্রচুর সিল মাসের দেখা পাওয়া যায় এই লেকে। সবচেয়ে মারাত্মক চিত্র হচ্ছে এর শীত কালে। এত অসাধার হয় যে বেশির ভাগ মানুষই শীতকালে এই লেকটি ভ্রমন করে। কারন বিশাল এই লেকটির পুরোটাই একটা সলিড বরফে রুপ নেয়। এবং পানিগুলো খুবই স্বচ্ছ হওয়াতে বরফ খন্ডগুলো কাচের মত পরিস্কার হয়ে যায়। এতটাই সুন্দর লাগে যে যারাই ওখানে শীত কালে একবার গিয়েছে মুগ্ধ হয়ে এসেছে।


তবে ভুলেও ওখানে শীত কালে খালিপায়ে নামতে যাবেন না। কারন কয়েক মিনিট লাগবে আপনি নিজেই লেকের পানি সাথে জমে বরফ হয়ে যেতে।

২) সর্বোচ্চ চুরা - Mauna Kea ( বেইজ থেকে চুরা পর্যন্ত হিসাবে)


 মাউন্ট কেয়া এর অবস্থান আমেরিকার হাওয়াই দ্বিপপুঞ্জে। এই পর্বতটি একটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। বিজ্ঞানিদের মতে এটিতে সর্বপ্রথম অগ্নিউৎপাত হয়েছিল আজথেকে আরো ৫ হাজার বছর আগে। এই পর্বতটি বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চুরা বলা হয়। তবে একটু অন্যভাবে। সমুদ্রপৃস্ঠ থেকে ইটর উচ্চতা ৪২০৫ মিটার।


 সাধারন আমরা সবচেয়ে উচু পর্বত হিসাবে জানি মাউন্ট এভারেস্টকে। লক্ষাধিক বছর আগে এশিয়া মহাদেশের মুল ভুখন্ডে সাথে ভারতিয় প্লেটটি যখন সংঘর্ষ বাধে তখনই এই পর্বত শ্রেনির সৃস্টি হয়েছে। কিন্তু এটির উচ্চতা হিসাব হয় সমুদ্র লেভেল থেকে।


 কিন্তু Mauna Kea পর্বতটি একটি দ্বিপরে মধ্যে অবস্থিত তারমানে এর বেইজ হচ্ছে একেবারে পানির নিচে। তাই যদি আপনি সমুদ্র লেভেল থেকে হিসাব করেন তবে সামান্য ভুল হবে। কারন পর্বতটির আসাল বেইজ হচ্ছে একেবারে সেই সমৃদ্র পৃস্ঠে। তো সেখান থেকে এই উচ্চতা 9,330 m বা প্রায় ৯ কিলোমিটার। যেখানে এভারেস্ট এর উচ্চতা ৮ কিলোমিটার এর মতন। তবে যেহেতু আমাদের পানির নিচে যাওয়া লাগে না এটাতে চরতে তাই আর সেই হিসাবটাও হয় না।


 এই পর্বতের উপরে Mauna Kea Observatories নামে একটি বিশাল টেলিস্পোপ সেন্টার বসানো আছে। এখানে মহাকাশ অবজারভেশন করার জন্য বিজ্ঞানিরা নিয়মিত যাতায়াত করেন। এটার কারন হচ্ছে এই এলাকার বাতাস শুষ্ক হওয়াতে এর আকাশ সবসময় ফকফকা পরিস্কার থাকে। যার কারনে মহাকাশের প্রত্যেকটা তারাকে দেখতে পাওয়া যায় চমৎকার ভাবে।

৩) পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতা - Mount Chimborazo

 এই পর্বতটি দক্ষিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডর এ অবস্থিত। আন্দিজ পর্বতমালার একজন গর্বিত সদস্য হচ্ছে ৪১২৩ মিটার বা ৪ কিলোমিটার উচ্চতার এই পর্বতটি। বর্তমানে এটি পৃথিবীর ১৭ তম উচু পর্বত। কিন্তু একটা দিকদিয়ে এটি প্রায় ৮ কিলোমিটার উচু এভারেস্ট পর্বতকে হার মানিয়ে দিয়েছে। আর সেটি হচ্ছে এটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভুপৃস্ঠের সর্বোচ্চ বিন্দু। কিন্তু কেন?

 সাধারন হিসাব করলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ চুরা থাকার কথা প্রায় ৮ কিলোমটিারের থেকেও উচু এভারেস্ট পর্বত। কিন্তু সেটা হয়নি। কারন হচ্ছে পৃথিবী সম্পুর্ন গোলাকার নয়। একেবারে কেন্দ্র থেকে মাউন্ট এভারেস্ট এর দুরত্ব হচ্ছে ৬৩৮২ কিলোমিটার। আর এই পর্বতটির দুরত্ব হচ্ছে ৬৩৮৪ কিলোমিটার। প্রায় দুই কিলোমটিার পার্থক্য।
 প্রথিবীর আকার কিছুটা কমলালেবুর মতন। সেটাও আবার সব স্থানে একই সকম নয়। তাই আপনি যদি উত্তর মেরুর দিকে যেতে থাকেন সেন্টারের দিকে কাছাকাছি যেতে থাকবেন। কিন্তু বিষুবরেখার দিকে আসতে থাকলে দুরে যেতে থাকবেন। এখানেই এভারেস্ট মার খেয়ে গেছে। এটি বিষুব রেখা থেকে মাত্র একডিগ্রি দক্ষিনে অবস্থিত।


এর মানে হচ্ছে আপনি আর আমি যদি একই সাথে সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রথেকে  পর্যায়ক্রমে এই পর্বতটি এবং এভারেস্টের দিকে রওয়ানা দেই। তবে আপনি যখন এই পর্বতের পাদদেশে এসে দারাবেন তখন আমি অলরেডি এবারেস্টের ৬ কিলোমিটার উপরে উঠেগেছি। আর আপনি যখন এই পর্বতে চুরায় তখন আমি এভারেস্টের চুরায় থাকার পরেই আপনার তেকে দুই কিলোমিটার নিচে আছি। অদ্ভুৎ এই পৃথিবীর ততধিক তার কাজকারবার।

৪) পৃথিবীর গভিরতম স্থান - Challenger Deep


সমুদ্র কতটুকুন গভির হতে পারে এই প্রশ্ন করলে অনেকেই উল্টা পাল্টা উত্তর দেয়। আবার আমি যদি বলি জাপানে সাগরের মারিয়িানা দ্বিপপুঞ্জের পাশেই চ্যালেঞ্জার ডিপ নামক একটি স্থানে পানির গভিরতা প্রায় ১১ কিলোমিটার তাবে তারা কিছুতেই বিষয়টা বিশ্বাস করতে চায় না। আসলে প্রথম যখন বিজ্ঞানিরা বিষয়টি আবিস্কার করেন তখন তারাও বিশ্বয়ে হতবাক হয়ে যান কিভাবে একটা এলাকা এতটা গভির হতে পারে।


মুলত এর রহস্য বের করার জন্য বিজ্ঞানিরা পুরো পৃথিবীকে কম্পিউটারের মধ্যে থিডি ম্যাপিং করালেন। তার পরে কম্পিউটারের সাহার্যে পৃথিবীর সবগুলো সমুদ্রের পানি বের করে দিলেন। এইবার দেখা গেল কেন এই ঘটনা ঘটল। এই রহস্য মুলত লুকিয়ে আছে প্রশান্ত মহাসাগরের অপর প্রান্তে East Pacific Rise নামক সমুদ্রতলের একটি পর্বত শ্রেনির ভিতরে। বিজ্ঞানিরা প্রচুর গবেষনা চালিয়ে দিখেলেন আস থেকে দের কোটি বছর আগে পৃথিবীর এই প্রশান্ত মহাসাগরের


এই সংঘর্ষের ফলে প্লেটের এক প্রান্ত মানে ম্যারয়ানা অঞ্চলে মাটি ঠেলে উপরের দিকে উঠে গিয়ে ম্যারিয়ানা দ্বিপপুঞ্চ গঠিত হয়। আর তার পাশেই সাগরের প্লেটটি স্লোপের মতন পিছলে গিয়ে ভিতরে ঢুকে যায়। এতে ওই অঞ্চলে মারাত্মক একটা গর্তের সৃস্টি হয়। আর এই ঢুকে যাওয়া মাটিগুলো আবার অপর অঞ্চল মানে East Pacific Rise এর গিয়ে পর্বতের আকারে ঠেলে বের হয়ে আসে।


 মারাত্মক এই ঘটনায় ম্যারিয়ানা অঞ্চলে গর্তটা গভির হতে হতে প্রায় ৮ কিলোমিটার এর মতন গভির হয়। কিন্তু চ্যালেঞ্জার ডিপ এলাকাটাতে হঠাৎ করে মাটি ভেঙ্গেগিয়ে আরো গভিরে পরে যায়। ফলে সেটি ১১ কিলোমিটারের মতন ডেবে যায়। আর অপর দিকে আস্তএকটা দ্বিপ সৃস্টি হয়ে যায়। পৃথিবীর যেহেতু গোলাকার তাই এই বিষয়টি আরো চমৎকার ভাবে ঘটে যায়। চিন্তা করে দেখেন যখন এই ঘটনা ঘটছিল কি ভয়ানক ভুমিকম্প আর অগ্নুৎপাতের সৃস্টি হয়েছিল ওই অঞ্চলগুলোতে।
 কিছুদিন আগে সম্ভবত ২০১২ সালে হলিউডের বিখ্যাত চিত্রপরিচালক জেমস ক্যামেরুন এই মারাত্মক স্থানে ডাইভ দিয়েছিলেন সাবমেরিন দিয়ে। এই স্থানটা মারাত্মক এই কারনে যে এই তলদেশে প্রতি স্কয়ার ইঞ্চিতে পানির চাপ থাকবে ৭২৫ কেজি। এই চাপে সাধারন স্টিলের প্লেটই চিরে চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ার কথা। এর আগে Bathyscaphe Trieste নামক একটা expedition জাহাজ এই নিচে ডাইভ দেয়। তবে তারা তখনও অত নিে যেতে পারেন নি যতটা জেমস ক্যামেরুনগিয়েছেন।

৫) সর্বোচ্চ ঝরনা - Angel Falls


 এটি ভেনেজুয়েলার Bolívar State নামক এলাকায় অবস্থিত। মুলত Auyán-tepui পর্বত শ্রেনি থেকে আসার পানি সংকিন্য ধারাটি এই খারা প্রান্ত থেকে সরাসরি পতিত হয়ে এই ঝর্নাটির সৃস্টি করেছে। এর নামকরন করা হয়েছে আমেরিকান  বিমান চালক Jimmie Angel এর নামানুসারে। যিনি প্রথম এই ঝরনাটার উপর দিয়ে বিমান চালনা করেন। পরবর্তিতে তার মৃত্যুর পরে তার দেহবশাষেস এর ছাই এই ঝরনাতেই উরানো হয়।


 মোটামুটি ৯৮০ মিটার বা প্রায় এক কিলোমিটার উপর থেকে পানি কোন বাধা ছারাই নিচে পরে। এর আবার সেই পানি গরিয়ে আরো ৪০০ মিটার বা ১৩০০ ফিটের মতন  গরিয়ে  Gauja নদীতে গিয়ে পরে। এই সময়ে বেশিরভাগ পানিই কুয়াশা হিসাবে চারিদিকে ছরিয়ে পরে। কারন এত উপর থেকে পরার সময় পানির কনাগুলো আলাদা হয়ে যায় ফলে সেগুলো ভর হারিয়ে বাতাসে ভাসতে শুরু করে।


এই ঝরনাটি এভাবে সৃস্টিহবার কারন হচ্ছে দুটি। এক পর্বতটি এই স্থানে এছে একবোরে প্রায় ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে খারা হয়ে গিয়েছে। সম্ভবত লক্ষাধিক বছর আগে বড়ধরনের কোন ভুমিধ্বসে খারা ভাবে এটির সৃস্টি হয়েছে। আর দ্বিতিয়ত পুরো পর্বতের মাথাট প্রায় সমতল এবং ঠিক এই স্থানে হালকা একটু ঢাল রয়েছে। ফলে সমস্ত পর্বতের পানি চুইয়ে এখানে এসে জমা হয় এবং একেবারে হঠাৎ করে পতিত হয়।



লক্ষাধিক মানুষ প্রতিবছর এই ঝরনাটি দেখতে এই অঞ্চলে যায়। অসাধারন এই পাহারি অঞ্চলটি ভেনেজুয়েলার অন্যতম একটি টুরিস্ট অঞ্চল।

এই পর্বটার মাত্র শুরু হইলো। এখনো প্রায় ৫ টা পর্ব বাকি আছে। প্রায় ২৫ টার মতন বিষয় আছে। অনেক কিছু শিখছি আমি এই বিষয়গুলোর উপরে স্টাডি করে। আশা করি আপনাদের কাছে বিষয়গুলো আরো ভালো লাগবে।

মূল লেখাটি লিখেছেন প্রকৌশলী বশর সিদ্দিকী